শ্বশুরবাড়ি, 'আপন মানুষ' তত্ত্ব এবং একটি বাস্তব গল্প

শ্বশুরবাড়ি এবং ‘সবাইকে আপন ভাবার’ সেই সেকেলে উপদেশ

শ্বশুরবাড়ি নিয়ে মেয়েদের অভিযোগের শেষ নেই। আর চারপাশের মানুষের উপদেশেরও অন্ত নেই। সবাই বলে— "শাশুড়িকে নিজের মায়ের মতো ভাববে", "ননদকে নিজের বোন", আর "দেবরকে নিজের ভাইয়ের মতো!"

আচ্ছা, সত্যিই যদি এই 'সবাইকে আপন ভাবার' তত্ত্বটা মেয়েরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা শুরু করে, তবে পরিবেশটা কেমন হবে? চলুন একটু মজার ছলে কল্পনা করে দেখি।

যখন শ্বশুরবাড়ি সত্যিই 'বাপের বাড়ি' হয়ে যায়!

শাশুড়ি মা রুমে ঢুকে আপনার প্রাইভেসি নষ্ট করছেন? নিজের মা মনে করলে আপনি হয়তো বলবেন— "ধুরো আম্মু, লাইটটা বন্ধ করে রুম থেকে যাও তো, ঘুমাবো!"

ননদ আপনার পার্সোনাল জিনিসপত্র না বলে ঘাঁটছে? নিজের ছোট বোন মনে করে পিঠে দু-চারটে চটকা দিয়ে বলবেন— "কিরে বাঁদর, না বলে আমার জিনিস ধরছিস কেন?"

দেবর হুটহাট রুমে চলে এল? নিজের ভাই মনে করে ঘাড়ের ওপর কয়েকটা বাড়ি দিয়ে হয়তো বলবেন— "যখন-তখন আমার ঘরে ঢুকবি না জানোয়ার, ম্যানার্স শিখিসনি?"

শ্বশুর মশাই খাবারে নুন-ঝালের খুঁত ধরছেন? নিজের বাবা মনে করলে বলে দেবেন— "নিজের বউ বানালে তো এত খুঁত ধরো না বাবা, যা বানিয়েছি চুপচাপ খেয়ে নাও তো!"

এভাবেই সবাইকে 'আপন' ভেবে বাপের বাড়ির মতো ব্যবহার করলে হয়তো আপনার শ্বশুরবাড়িতে থাকা ওই দিনই শেষ হয়ে যাবে! কারণ বাস্তবতা হলো, বাপের বাড়ি আর শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ ও মানিয়ে নেওয়ার ধরণ একদমই আলাদা।

বইটি সংগ্রহ করতে এখানে ক্লিক করুন

আসলে সমাধান কোথায়?

সবকিছু মুখ বুজে মেনে নেওয়া যেমন সমাধান নয়, তেমনি অকারণে বেয়াদবি করাও কাম্য নয়। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে ভারসাম্য। ঘরটা শান্তির করতে হলে—

  • পুরুষকে প্রকৃত পুরুষের মতো দায়িত্বশীল হতে হবে।
  • নারীকে হতে হবে বুদ্ধিমতী এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন।
  • যেখানে প্রতিবাদ দরকার, সেখানে প্রতিবাদ করতে হবে শালীনতার সাথে।
  • যেখানে হক রক্ষা করা প্রয়োজন, সেখানে ছাড় দেওয়া যাবে না।

অতিরিক্ত বাড়িয়ে বাড়িয়ে কথা বলতে গিয়ে যেমন আল্লাহর কাছে ধরা খাবো না, আবার অতিরিক্ত ছাড় দিতে গিয়ে দুনিয়াতেও নিজের ওপর জুলুম হতে দেবো না। তবেই আল্লাহর সন্তুষ্টি আশা করা যায়।

প্রয়োজনীয় কিছু বই

বিয়ের আগে নিজের অধিকার আর দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চাইলে অবশ্যই পড়ুন— “বিয়ে ও বাগদান”

আর পুরুষদের জন্য, স্ত্রীর সাথে কেমন আচরণ হওয়া উচিত, সেটা জানতে আমাদের নবীজি (সা.) ও মনীষীদের জীবনী থেকে শেখার বিকল্প নেই।

বলুন তো, নববী জীবন থেকে শেখা সেই চমৎকার বইটির নাম কী?

(আপনার উত্তরটি নিচের কমেন্ট বক্সে লিখে জানান!)

Post a Comment